উন্নয়ন নয়, ২০২২ সাল হবে ঋণের মাইলফলক: রিজভী

  • সর্বশেষ আপডেট : রবিবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২২
  • ১২
ছবি: সংগৃহীত

উন্নয়ন নয়, ২০২২ সাল ঋণের মাইলফলক হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

‘২০২২ সাল হবে বাংলাদেশের জন্য অবকাঠামো উন্নয়নের এক মাইলফলক বছর’ শুক্রবার  জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, আপনি (প্রধানমন্ত্রী) কি জানেন, আজকে যে সন্তানটি জন্মগ্রহণ করছে, তার পেছনে ৯৮ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে সে জন্মগ্রহণ করছে। আপনি উন্নয়নের কথা বলেন। ২০২২ সাল বলেন উন্নয়নের মাইলফলক হবে। এটা তো ঋণের মাইলফলক।

রোববার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নিচে জাতীয়তাবাদী অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা ও দোয়া মাহফিলে রিজভী এ মন্তব্য করেন।

এমএম ওবায়দুল রহমান, কামরুল হাসান শাহীন, তনিয়া সোমা এবং শান্ত ইসলাম জুম্মনসহ সংগঠনটির প্রয়াত সহকর্মীদের স্মরণে এ দোয়া মাহফিল হয়।

রিজভী বলেন, গত শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ২০২২ সাল হবে উন্নয়নের মাইলফলক। আমি বলতে চাই- এই উন্নয়নের ধারায় জনগণ এবং দেশ আরও কত প্রতারিত হবে? আরও কতো নিঃস্ব হবে? আর আপনি (প্রধানমন্ত্রী) কি জানেন, আজকে যে সন্তানটি জন্মলাভ করছে, তার পেছনে ৯৮ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে সে জন্মলাভ করছে! আপনি উন্নয়নের কথা বলেন। ২০২২ সাল বলেন উন্নয়নের মাইলফলক হবে। এটা তো ঋণের মাইলফলক। এটা তো গুমের মাইলফলক হবে। এটা তো বন্দুকযুদ্ধের মাইলফলক হবে। এটা অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের গুমের শিকারের মাইলফলক হবে। আমি আগেও বলেছি, যদি লজ্জা-শরম না থাকে তাহলে তাদেরকে বলেও কোনো লাভ নাই।

আওয়ামী লীগ সরকারের বর্তমান মেয়াদের তিন বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের সমালোচনা করে তিনি বলেন, লাজ-লজ্জা যদি একেবারেই হারিয়ে যায় তাকে কিছু বলার থাকে না। যাদের সামান্য হারায় তাদেরকে কিছু বললে তারা আরও লজ্জিত হয়। আর যাদের মোটেই লাজ-লজ্জা থাকে না, তাদের বিরুদ্ধে সমালোচনা করলে তাদের কিছুই যায় আসে না। আর সমস্ত লজ্জার যে আবরণ, সেটা এই সরকার হারিয়ে ফেলেছে।

রিজভী বলেন, আমি কয়েকদিন আগে খবরের কাগজে দেখেছি, মাত্র ৭টা কি ৮টা পিয়নের পোস্টে চাকরির জন্য আবেদন করতে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে। তার জন্য কয়েক হাজার আবেদন পড়েছে। তার মধ্যে ‘এমএ পাস’ অসংখ্য। শেখ হাসিনার উন্নয়ন হচ্ছে এটাই। আপনার মেট্রোরেল কি আমরা চিবিয়ে চিবিয়ে খাব? আপনার ফ্লাইওভার কি আমরা চিবিয়ে চিবিয়ে খাব? আপনি ২০২২ সালকে বলেছেন, উন্নয়নের মাইলফলক। আর গণতন্ত্র ও কথা বলার স্বাধীনতার কী হবে?

‘এই যে অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট, যারা সত্য কথা বলতে গিয়ে, সত্য মন্তব্য করতে গিয়ে যাদেরকে নিরুদ্দেশ করেছেন, যাদেরকে ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নামে হত্যা করেছেন, যাদেরকে গুম করেছেন, তাদের কী হবে? সেই গণতন্ত্র ও কথা বলার স্বাধীনতার কী হবে?’

‘জনগণ আস্থা রেখে ভোট দিয়েছেন’- প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, আপনি সকল কিছু নিয়ন্ত্রণে নিয়ে, ভয় দেখিয়ে আপনি যা কিছু বলতে পারেন। আপনি দিনের ভোট রাতে করেন। আপনার ওপর আস্থা রেখেছেন? আপনি জনগণের ওপর আস্থা রাখলেন না কেন? আপনি জনগণ ও ভোটারদেরকে কেন প্রতারণা করেছেন।

‘সরকারের বিরুদ্ধে দেশে-বিদেশ ষড়যন্ত্র হচ্ছে’- প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী আরও বলেন, আমি বলছি, আপনার সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হবে কেন? যারা গণতন্ত্র চায় ও মুক্তকণ্ঠে কথা বলতে চায়, তারা প্রত্যেকেই এই মুহূর্তে আপনার পদত্যাগ চান। আপনার বিরুদ্ধে দেশে-বিদেশে ষড়যন্ত্র হবে কেন? এই রক্তপিপাসু সরকারের বিরুদ্ধে দেশে-বিদেশে যদি ষড়যন্ত্র হয়েও থাকে, এই ষড়যন্ত্র ন্যায়সঙ্গত বলে আমি মনে করি। কারণ সবকিছু মিলে আপনারদেরকে ক্ষমতা ছাড়তে হবে।

কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুলের সভাপতিত্বে সভায় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, সহসাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

শেয়ার করুন

আরও খবর

মুজিববর্ষ সম্পর্কে জানতে নিচে ক্লিক করুন