মঙ্গলবার, ২৪ মে ২০২২, ০৩:৫২ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ শিরোনামঃ
ই-কমার্স কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িতদের খুঁজতে হাইকোর্ট নির্দেশ ৬৩ বছরের রেকর্ড ভাঙ্গলেন লিটন ও মুশফিক সুনির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে : বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী রেমিটেন্সের বিপরীতে নগদ সহায়তা পদ্ধতি সহজ করলো বাংলাদেশ ব্যাংক ‘শুভকে দেখে মনে হয়েছে বঙ্গবন্ধু দাঁড়িয়ে আছেন’; দেলোয়ার জাহান ঝন্টু খালেদা জিয়াকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য দায়িত্বজ্ঞানহীন; মির্জা ফখরুল শ্রমিকদের ৪০০ কোটি টাকা দিয়ে ড. ইউনূসের ‘সমঝোতা’ দুর্নীতি মামলায় আত্মসমর্পণের পর কারাগারে সাবেক ওসি প্রদীপের স্ত্রী চুমকি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে বিএনপি’র বক্তব্য নতুন ষড়যন্ত্রের বহির্প্রকাশ : সেতুমন্ত্রী তাইওয়ানকে রক্ষায় পাশে থাকবে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ ক্রিকেটের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস আইসিসি’র ধ্বংসস্তুপ থেকে দলকে টেনে তুললেন মুশফিক-লিটন আঞ্চলিক সংকট মোকাবেলায় অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারে প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ প্রস্তাব ফিলিপাইনে ফেরিতে অগ্নিকান্ডে কমপক্ষে ৭ জনের প্রাণহানি : কোস্ট গার্ড টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ জৈষ্ঠ্যেমাসে কুয়াশা ! শিমুলিয়া নৌপথে আড়াই ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ ছিলো ডিভিশন পেলেন হাজী সেলিম, চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশ নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ ট্রাস্টির জামিন নামঞ্জুর করে পুলিশে দিলেন হাইকোর্ট ক্ষমতায় গেলে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন বাতিল করবে বিএনপি: মির্জা ফখরুল পদ্মা সেতু উদ্বোধনের কথা শুনলেই বিএনপির মুখ কালো হয়ে যায়: ওবায়দুল কাদের

আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে কাঙ্খিত ৩৮ তম অমর একুশে’র বইমেলা

  • সর্বশেষ আপডেট : সোমবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে কাঙ্খিত অমর একুশে বইমেলা। ৩৮ তম এই মেলা চলবে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
আগামীকাল ১৫ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার বিকাল ৩ টায় গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার  ভার্চুয়ালি বইমেলা উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। বাংলা একাডেমির সভাপতি কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। শুভেচ্ছা বক্তৃতা করবেন সংস্কৃতি সচিব মো. আবুল মনসুর। স্বাগত বক্তৃতা করবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহাম্মদ নূরুল হুদা।
আজ বাংলা একাডেমির আব্দুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে এ উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবুল মনসুর, একাডেমির সচিব এ এইচ এম লোকমান হোসেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা।
অমর একুশে বইমেলা-২০২২ এর মূল প্রতিপাদ্য-‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী’।
এই প্রতিপাদ্য নির্ধারণের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। এবার ভাষা আন্দোলনের সত্তর বছর। একই সঙ্গে এবছর বাংলাদেশের সংবিধানের পঞ্চাশ বছরও। ভাষা আন্দোলন, বঙ্গবন্ধু, স্বাধীনতা ও সংবিধান প্রাপ্তির এই বিশেষ সময়ে বাঙালিত্বের চেতনা জাগানিয়া বইমেলার আয়োজন আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে, বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন ও স্বাধীনতার মর্মবাণী সবার মাঝে পৌছে দেয়ার জন্য বঙ্গবন্ধুর গ্রন্থভুক্ত হস্তলিপি বিভিন্ন স্থাপনায় ব্যবহার করা হয়েছে। এর ফলে স্থাপনাগুলো সৌন্দর্যমন্ডিত হয়েছে। এসব হস্তলিপি পাঠ করে তরুণরা বঙ্গবন্ধুর হাতের লেখার সঙ্গে পরিচিত হবে। একই সঙ্গে তাঁর চিন্তা ও দর্শনের অন্তর্নিহিত অর্থও উদ্ধার করতে পারবে। আবার আমাদের জন্য এবার আনন্দের খবর এই যে, বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী বাস্তবায়ন কমিটি একটি প্যাভিলিয়ন নিয়েছে। এই প্যাভেলিয়নটি ইতোমধ্যে অনন্যরূপে সাজানো হয়েছে।
ফেব্রুয়ারি মাসের ১ তারিখ থেকে বইমেলা শুরু হওয়ার রীতি থাকলেও করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির কারণে এবার কাঙ্খিত অমর একুশে বইমেলা শুরু হচ্ছে মাসের মাঝামাঝিতে।
এই বইমেলা ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন দুপুর ২ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। রাত ৮ টার পর নতুন করে কেউ মেলায় প্রবেশ করতে পারবেন না। ছুটির দিন বইমেলা সকাল ১১ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত চলবে। এছাড়া মহান একুশে ফেব্রুয়ারি মেলা শুরু হবে সকাল ৮ টা থেকে চলবে রাত ৯ টা পর্যন্ত।
বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ এবং ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রায় সাড়ে ৭ লাখ বর্গফুট জায়গায় বইমেলা অনুষ্ঠিত হবে। মেলায় মোট ৩৫ টি প্যাভিলিয়নসহ একাডেমি প্রাঙ্গণে ১০২টি প্রতিষ্ঠানকে ১৪২টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৩২টি প্রতিষ্ঠানকে ৬৩৪টি ইউনিট; মোট ৫৩৪ টি প্রতিষ্ঠানকে ৭৭৬ টি ইউনিট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
বইমেলায় প্রবেশ ও বাহির পথে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মেলার এলাকাজুড়ে তিন শতাধিক ক্লোজসার্কিট ক্যামেরার ব্যবস্থা থাকবে। প্রবেশ ও বাহির পথে পর্যাপ্ত সংখ্যক আর্চওয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মেলার সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে পুলিশ, র‌্যাব, আনসার, বিজিবি ও গোয়েন্দা সংস্থাসমূহ।
বইমেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪টি প্রবেশপথ ও ৩টি বাহির পথ জনসাধারণের প্রবেশ ও বাহির হওয়ার জন্য থাকবে । বিশেষ দিনগুলোতে লেখক, সাংবাদিক, প্রকাশক, বাংলা একাডেমির  ফেলো এবং রাষ্ট্রীয় সম্মানপ্রাপ্ত নাগরিকদের জন্য প্রবেশের বিশেষ ব্যবস্থা করা হবে।
বরাবরের মতো বাংলা একাডেমির ৩টি প্যাভেলিয়ন, শিশুকিশোর উপযোগী বইয়ের জন্য ১টি এবং সাহিত্য মাসিক উত্তরাধিকার এর জন্য ১টি স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এবার শিশুচত্বর সোহরাওয়ার্দী  উদ্যান অংশে থাকবে। তবে কোভিড-১৯ পরিস্থিতির কারণে প্রথমদিকে ‘শিশু প্রহর’ থাকছে না।
অন্যদিকে, লিটল ম্যাগাজিন চত্বর স্থানান্তরিত হয়ে উদ্যানের এম্ফি থিয়েটারের পূর্বদিকে মেলার মূল প্রাঙ্গণে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। মোট ১২৭ টি লিটলম্যাগকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বইমেলায় বাংলা একাডেমি এবং মেলায় অংশগ্রহণকারী অন্যান্য প্রতিষ্ঠান শতকরা ২৫ শতাংশে বই বিক্রি করবে।
বইমেলা আরো প্রাণবন্ত ও জমজমাট করতে এবং লেখকদের উৎসাহ দিতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা থাকবে। অমর একুশে বইমেলা-২০২২ এর প্রচার কার্যক্রমের জন্য একাডেমিতে বর্ধমান ভবনের পশ্চিম বেদিতে ১ টি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ২ টি তথ্যকেন্দ্র থাকবে। গণমাধ্যমকর্মীদের অবাধ তথ্য আদান-প্রদানের সুবিধার্থে বইমেলায় মিডিয়া সেন্টার থাকবে তথ্যকেন্দ্রের উত্তরপাশে।
বর্তমান সরকারের ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ ধারণার অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘এটুআই’ কর্তৃপক্ষ বইমেলায় তাদের নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন, তথ্য কেন্দ্রের সর্বশেষ খবরাখবর এবং মেলার মূল মঞ্চের সেমিনার প্রচারের ব্যবস্থা করবে। এছাড়া সার্বক্ষণিক থাকছে ওয়াই-ফাই সুবিধা।
বইমেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করবে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতার। এছাড়া মেলা প্রাঙ্গণ থেকে বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল মেলার তথ্যাদি প্রতিদিন সম্প্রচার করবে। এফ এম রেডিওগুলোতে মেলার নানা তথ্য প্রচার করা হবে। গ্রন্থমেলার খবর নিয়ে প্রতিদিন বেশ কয়েকটি বুলেটিন প্রকাশিত হবে। ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম প্রতিদিন মেলার তথ্য প্রচার করবে।
বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক জানান, বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী উদযাপনে সারাদেশে যে জাগরণ তৈরি হয়েছে তার প্রতিফলন এই প্যাভেলিয়ন থেকে মেলায় আগত দর্শক-পাঠক ও বঙ্গবন্ধু অনুরাগীরা পাবেন। কোভিড মহামারি পরিস্থিতিরেত যখনই বইমেলা হচ্ছে তখন মেলায় যাতে স্বাস্থ্যবিধি সম্পূর্ণভাবে মান্য করা হয় সেদিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোভিড প্রটোকল মানা এবার সবার জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এবছর মেলার বিন্যাসে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে ।
তিনি আরো জানান, গতবছর প্যাভিলিয়নগুলো উদ্যানের মধ্যমাঠে রাখা হয়েছিল। এবার তা সকল প্রান্তে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে বিন্যাসে পরিবর্তন ও সৌন্দর্যে নতুনমাত্রা যুক্ত করা হয়েছে।
খাবারের দোকান গুলোতে আগতদের ভ্যাকসিনেটেড কার্ড প্রদর্শন করা ছাড়া খাবার পরিবেশন বা বিক্রি করা হবে না। এছাড়া প্রতিটি স্টলে ‘নো মাস্ক,নো সেল’ এই নির্দেশনার ব্যবস্থাও রয়েছে।

Source/BSS

শেয়ার করুন

আরও খবর

মুজিববর্ষ সম্পর্কে জানতে নিচে ক্লিক করুন