শহীদ মিনারে গাফফার চৌধুরীকে রাষ্ট্রীয় সম্মান, শ্রদ্ধা নিবেদন

  • সর্বশেষ আপডেট : শনিবার, ২৮ মে, ২০২২
| ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রীয় সম্মান ও সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধার জন্য বরেণ্য সাংবাদিক আবদুল গাফফার চৌধুরীর মরদেহ কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে রাখা হয়েছে। সেখানে মহান একুশের অমর সংগীতের রচয়িতা বরেণ্য সাংবাদিক, সাহিত্যিক ও কলাম লেখক আবদুল গাফফার চৌধুরীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা, মন্ত্রিপরিষদে সদস্য সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক- সাংস্কৃতিক সংগঠনে প্রতিনিধিসহ সর্বস্তরের মানুষ শহিদ মিনারে জড়ো হয়েছেন।

বেলা ১টার পর কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে ভাষা ও স্বাধীনতা সংগ্রামী, মুক্তিযোদ্ধা-সাংবাদিকের মরদেহ শ‌হিদ মিনা‌রে পৌছা‌লে স‌ম্মি‌লিত সাংস্কৃ‌তিক জো‌টের শিল্পীরা কোরাস ক‌ণ্ঠে গাফফার চৌধুরীর লেখা `আমার ভাই‌য়ের র‌ক্তে রাঙা‌নো একু‌শে ফেব্রুয়া‌রি…` গান‌টি গে‌য়ে অনুষ্ঠান ম‌ঞ্চে নি‌য়ে যান। জাতীয় পতাকায় ঢেকে দেওয়া হয় প্রয়াতের মরদেহ। এরপর মুক্তিযোদ্ধা-সাংবাদিকের প্রতি ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় সম্মান গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। বিউগলে বেজে ওঠে করুণ সুর।

এসময় প্রথমে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তার সামরিক সচিব মেজর জে. এস এম সালাউদ্দিন ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে তার সামরিক সচিব বিগ্রেডিয়ার জেনারেল কবির আহমেদ। এরপর জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ফুলেল শ্রদ্ধা জানান।

পরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, প্রেসিডিয়াম সদস্য মতিয়া চৌধুরী ও নুরুল ইসলাম নাহিদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, বাহাউদ্দিন নাসিম প্রমুখ।

এরপর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, প্রতিষ্ঠান, সংগঠনের প্রতিনিধিদের শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বিকাল ৩টা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষ শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব চলে।

এরপর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। সাড়ে তিনটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদে জানাজার পর বিকেল চারটায় জাতীয় প্রেসক্লাবে আনা হবে বরেণ্য এই সাংবাদিকের শববাহী কফিন। সাড়ে পাঁচটায় মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করে হবে।

এর আগে শনিবার (২৮ মে) সকাল ১১টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি ২০২ ফ্লাইটযোগে লন্ডন থেকে ঢাকা পৌঁছায় আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর মরদেহ। ‌সেখানে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের নেতৃত্বে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা মরদেহ গ্রহণ করেন। লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের তত্ত্বাবধানে প্রয়াতের স্বজনরাও একই ফ্লাইটে ঢাকায় আসেন।

মুক্তিযুদ্ধকালে মুজিবনগর সরকার নিবন্ধিত স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পত্রিকা ‘সাপ্তাহিক জয় বাংলা’র প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক আবদুল গাফফার চৌধুরী।

বাঙালির হৃদয়ে চিরজাগরূক অশ্রুমাখা গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ রচয়িতা আবদুল গাফফার চৌধুরী গত ১৯ মে লন্ডনের একটি হাসপাতালে ৮৮ বছর বয়সে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুতে দেশ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নামে। ২০ মে শুক্রবার পূর্ব লন্ডনের ব্রিকলেইন মসজিদে তার প্রথম নামাজে জানাজা হয়। এরপর পূর্ব লন্ডনের ঐতিহাসিক শহীদ আলতাব আলী পার্কের শহীদ মিনারে বাংলাদেশি-ব্রিটিশ কমিউনিটির সদস্যরা তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে। ২৩ মে গাফফার চৌধুরীর স্মরণে পূর্ব লন্ডনে এক মিলাদ মাহফিল ও শোকসভা আয়োজন করে বাংলাদেশ হাইকমিশন।

শেয়ার করুন

আরও খবর

মুজিববর্ষ সম্পর্কে জানতে নিচে ক্লিক করুন