ঢাকা, বাংলাদেশ সময়ঃ ৩:৫০ অপরাহ্ণ শনিবার, ৮ মে, ২০২১
করোনাভাইরাস
অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

সরাসারি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিরেক্ট প্রোকিউরমেন্ট মেথড-ডিপিএম) করোনার ভ্যাকসিন কেনার অনুমোদন পেয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়। দ্রুত ভ্যাকসিন কিনতে ৩০ নভেম্বর মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে সারসংক্ষেপ পাঠায়।

এতে সিরাম ইন্সটিটিউট অব ইন্ডিয়া থেকে ১৫৮৯ কোটি ৪৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকায় তিন কোটি ডোজ ভ্যাকসিন কেনার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়, যা পরবর্তী সভায় অনুমোদিত হয়। এখন সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। শিগগিরই এখান থেকেও অনুমোদন পাওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।

এ প্রসঙ্গে মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. আবদুল মান্নান টেলিফোনে যুগান্তরকে বলেন, এ সংক্রান্ত কাগজপত্র ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত অনুমোদন হয়ে যাবে। তিনি বলেন, ভ্যাকসিন কেনার ক্ষেত্রে যে ত্রিপক্ষীয় এমওইউ স্বাক্ষরিত হয়েছে সেখানে নানা শর্ত রয়েছে। দ্রুত ভ্যাকসিন পেতে আশা করছি দ্রুতই সবকিছু সম্পন্ন হবে।

রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি অনুসরণ করে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন কিনতে পিপিআর ২০০৮-এর বিধি ৭৬(২)-এ উল্লিখিত মূল্যসীমার ঊর্ধ্বে ক্রয়ের নীতিগত অনুমোদন প্রয়োজন।

এ সংক্রান্ত সারসংক্ষেপে সচিব জানান, উন্মুক্ত টেন্ডার পদ্ধতিতে (ওটিএম) ভ্যাকসিন কেনা সময়সাপেক্ষ। এছাড়া করোনা ভ্যাকসিন পাওয়ার সব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ইতোমধ্যে সিরাম ইন্সটিটিউট অব ইন্ডিয়ার সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। করোনা মহামারী থেকে মুক্তি পেতে দ্রুত ভ্যাকসিন কেনার লক্ষ্যে সরাসারি ক্রয় পদ্ধতি (ডিপিএম) অনুসরণ করতে হবে।

তিনি বলেন, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুল (পিপিআর)-এর তফসিল-২-এর বিধি-৭৬(১) অনুযায়ী জরুরি পরিস্থিতিতে সরাসরি চুক্তির আওতায় মন্ত্রণালয় বা বিভাগ ৫ কোটি টাকার পণ্য কিনতে পারে। ভ্যাকসিনের প্রস্তাবিত দাম ৫ কোটি টাকার বেশি হওয়ায় পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট (পিপিএ)-২০০৬-এর ধারা অনুযায়ী অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সুপারিশ প্রয়োজন।

ওই সারসংক্ষেপে বলা হয়, বিশ্বে অনেক প্রতিষ্ঠান করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কারের জন্য কাজ করছে। ভ্যাকসিনের প্রাপ্যতার নিশ্চয়তা, গুণগতমান, কার্যকারিতা এবং সংরক্ষণের জন্য তাপমাত্রা ইত্যাদি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ সরকার অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং এস্ট্রাজেনিকার যৌথ উদ্যোগে তৈরি টিকা কিনতে যাচ্ছে।

সিরাম ইন্সটিটিউট অব ইন্ডিয়া থেকে ভ্যাকসিনটি কেনা হবে। প্রতিষ্ঠানটি বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের মাধ্যমে ভ্যাকসিন বাংলাদেশ সরকারকে সরবরাহ করতে চায়। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নীতিগত অনুমোদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৫ নভেম্বর স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ সিরাম ইন্সটিটিউট অব ইন্ডিয়া এবং বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

এর আলোকে সিরাম ইন্সটিটিউট অব ইন্ডিয়া প্রস্তুতকৃত ভ্যাকসিন পরিবহন ব্যয়সহ প্রতি ডোজের মূল্য ৫ ইউএস ডলার নির্ধারণ করে। ভ্যাকসিনের অন্যান্য আনুষঙ্গিক উপকরণের জন্য আরও সোয়া ডলার ধার্য করা হয়েছে।

এতে প্রতি ডোজ ভ্যাকসিনের খরচ দাঁড়িয়েছে সোয়া ৬ ডলার। প্রাথমিক পর্যায়ের তিন কোটি ডোজ ভ্যাকসিন কেনার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর দাম দাঁড়ায় ১৮ কোটি ৭৫ লাখ ইউএস ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় এক হাজার ৫৮৯ কোটি ৪৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা।

১০ নভেম্বর অর্থ বিভাগে ভ্যাকসিন কেনা ও আনুষঙ্গিক উপকরণ ব্যয়সহ এক হাজার ৫৮৯ কোটি ৪৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়। অর্থ বিভাগ থেকে ১৬ নভেম্বর প্রাথমিক বরাদ্দ হিসাবে ৭৩৫ কোটি ৭০ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়, যা রাজস্ব বাজেটের অন্তর্ভুক্ত। ইতোমধ্যে ভ্যাকসিন কেনার কার্যালয় হিসেবে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক কর্তৃক ক্রয় পরিকল্পনা অনুমোদন করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ শনাক্ত হয় ৮ মার্চ। এ পর্যন্ত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৮১ হাজার ৯৪৫ জন। রোগটিতে এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৬ হাজার ৯০৬ জনের। এর মধ্যে ২ জুলাই ৪ হাজার ১৯ জন কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়, যা এক দিনে সর্বোচ্চ শনাক্ত। প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু ঘটে ৩০ জুন ৬৪ জন।

 
Adddd_Logo.png
 ইউনিভার্স ট্রিবিউন