ঢাকা, বাংলাদেশ সময়ঃ ১০:২২ পূর্বাহ্ণ শনিবার, ৮ মে, ২০২১
জাতীয়
অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
ছবি: সংগৃহীত

উন্নয়ন প্রকল্পের মেয়াদ ও টাকা বাড়ানোর ধারা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, যথা সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে। প্রকল্প পরিচালকদের (পিডি) ডাকুন। প্রকল্পের বাস্তবায়ন কেন দেরি হচ্ছে তার কারণ অনুসন্ধান করুন।

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে এ নির্দেশ দেন তিনি। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে গণভবন থেকে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা। বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম।

 

ড. আলম বলেন, ‘কৃষি তথ্য সার্ভিস আধুনিকায়ন ও ডিজিটাল কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ শক্তিশালীকরণ’ প্রকল্পটি অনুমোদন দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, প্রকল্পের বাস্তবায়নের বিলম্বের কারণ কি? ছোট খাট কাজ করতে কেন এত সময় লাগছে? পিডি কে? এ সময় পিডি উপস্থিত ছিলেন না। কৃষি সচিব নতুন হওয়ায় তিনিও কোন উত্তর দিতে পারেননি। কৃষি মন্ত্রীও ছিলেন ছুটিতে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২ বছর মেয়াদ এবং ব্যয় ৬৮ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে কেন ১০৯ কোটি টাকা করা হয়েছে তার কারণ অনুসন্ধান করুন। পিডিদের ডাকুন।

এছাড়া ‘চরখোলা-তুষাখালী মঠবাড়িয়া-পাথরঘাটা সড়ক উন্নয়ন ও প্রশস্তককরণ’ শীর্ষক প্রকল্প অনুমোদন দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এটি একটি পুরনো সড়ক। এই প্রকল্পে কেন এত সময় লাগছে। এবার টাকা বাড়ানো, মেয়াদ বাড়ানোর ধারা বন্ধ করুন। বিরক্তি প্রকাশ করে তিনি বলেন, যথা সময়ে প্রকল্প শেষ করতে হবে।

 

ড. শামসুল আলম জানান, পঞ্চবটি হতে মুক্তারপুর সেতু পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ’ প্রকল্পের নাম পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এর পরিবর্তে রাখতে বলেছেন ‘দোতলা সড়ক নির্মাণ’। কেননা এটি এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের শর্ত পূরণ করে না। এছাড়া এ প্রকল্পে ১০ কোটি টাকা ধরা ছিল পরামর্শক খাতের ব্যয়। সেটি বাড়ানোর দাবী করেন মন্ত্রী পরিষদ সচিব। পরবর্তীতে আরও ১৫ কোটি টাকা বাড়িয়ে মোট ২৫ কোটি টাকা করার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছেন, সড়ক তৈরিতে গাছ নষ্ট করা যাবেনা। সড়ক মান সম্মতভাবে তৈরি করতে হবে। যাতে ভারী যানবাহন চলাচল করতে পারে। এছাড়া দক্ষিণাঞ্চলের সড়কের জন্য একটি মাস্টার প্ল্যান করতে হবে। সে অনুযায়ী রাস্তা তৈরি করতে হবে। কেননা ওই এলাকায় এখন ভারী যানবাহন চলাচল অনেক বেড়ে যাবে।

একনেক সভায় পঞ্চবটি-মুক্তারপুর সড়কে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণসহ ৪ প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে। এগুলো বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ৩ হাজার ৯০৩ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ৩ হাজার ৫২৪ কোটি ১০ লাখ টাকা এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থার নিজস্ব কহবিল থেকে ৩৭৯ কোটি ৫১ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম।
তিনি বলেন, পঞ্চবটি হতে মুক্তারপুর সেতু পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্পটির ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়িত হবে। এটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে দুই হাজার ২৪২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে দুই হাজার ২০ কোটি ৭৭ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজেস্ব অর্থায়ন থেকে ২২২ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। প্রকল্পটি বস্তবায়ন করবে সেতু বিভাগ।

ড. শামসুল আলম জানান, এই প্রকল্পটির নাম পরিবর্তন করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, এলিভেটেট এক্সপ্রেসওয়ের যে বৈশিষ্ঠ্য তা এটিতে থাকবে না। ফলে এ প্রকল্পের নাম এলিভেটেড এক্সপ্রসওয়ের পরিবর্তে ‘দ্বোতলা সড়ক’ নির্মাণ রাখতে হবে। আরও জানানো হয়, এটি বাস্তবায়িত হলে মুন্সিগঞ্জ জেলার সঙ্গে ঢাকা ও নারায়নগঞ্জের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ার পাশাপাশি ব্যয় সাশ্রয়ী যাতায়াত নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এছাড়া দক্ষিণাঞ্চলের যানবাহনগুলো ঢাকা শহরে প্রবেশ করতে হবে না। এসব যানবাহন তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চলাচল করতে পারবে। এছাড়া মুন্সিগঞ্জ জেলার সঙ্গে ঢাকা ও নারায়নগঞ্জের অধিক উন্নত ও নিরাপদ সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে।

একনেকে অনুমোদিত অন্য প্রকল্প গুলো হচ্ছে- কৃষি তথ্য সার্ভিস আধুনিকায়ন ও ডিজিটাল কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ শক্তিশালীকরণ প্রকল্প। চরখালী-তুষখালী-মঠবাড়িয়া-পাথরঘাটা সড়ক উন্নয়ন ও প্রশস্তকরণ প্রকল্প এবং ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের সড়ক উন্নয়ন ও ড্রেনেজ নেটওয়ার্কসহ নাগরিক সেবা উন্নতকরণ প্রকল্প।#

 ইউনিভার্স ট্রিবিউন