ঢাকা, বাংলাদেশ | সময়ঃ ৩:৪৫ পূর্বাহ্ণ
আজ সোমবার, ১৭ মে, ২০২১
অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
ছবি: সংগৃহীত

সিলেটের মুরারী চাঁদ (এমসি) কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে গণধর্ষণের মামলায় আবারও সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি। 

 

বুধবার সাক্ষ্যগ্রহণের নির্ধারিত তারিখ বেলা ১১টায় সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মোহিতুল হকের আদালতে মামলার ৮ আসামিকে হাজির করা হলেও আসেননি কোনো সাক্ষী। 


এর আগে গত ২৪ জানুয়ারি সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখেও সাক্ষীরা হাজির হননি।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি রাশিদা সাঈদা খানম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, মামলার প্রথমে বাদীপক্ষের সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ হওয়ার কথা। তবে দুই তারিখেই বাদীপক্ষ সাক্ষীদের হাজির করেননি।

বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার অনুকূলে বাদীপক্ষের আইনজীবী শহিদুজ্জামান চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গণধর্ষণের ঘটনায় দুটি পৃথক মামলা হয়েছে। গত ২৪ জানুয়ারি আদালতে এ দুটি মামলা একসঙ্গে বিচার কাজ শুরু করার আবেদন করেছিলাম। কিন্তু বিচারক আবেদন খারিজ করে দেন। বাদীপক্ষ এ আবেদন নিয়ে উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার বিষয়টি ট্রাইব্যুনালকে অবগত করেছি। 

তিনি বলেন, ছাত্রাবাসে নববধূকে তুলে নিয়ে গণধর্ষণের আগে তার স্বামীকে মারধর ও টাকা ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনা ঘটেছিল। এ ঘটনায় ছিনতাইয়ের অভিযোগে আরও একটি মামলা হয়। ধর্ষণ মামলার আট আসামিই এই মামলার আসামি। এতে ধর্ষণ মামলার সাক্ষীদেরও সাক্ষী রাখা হয়। 

একই ঘটনার পৃথক দুটি মামলা দুটো আদালতে চললে বিচারকার্য বিলম্বিত হতে পারে। এছাড়া সাক্ষীদের দুই জায়গায় সাক্ষ্য দিতে হবে এবং বিচারও প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিবে। তাই আমরা দুই মামলা একই আদালতে একইসঙ্গে চালানোর আবেদন করেছিলাম।

আদালত সূত্র জানায়, বুধবার বিচারক বাদীপক্ষের আইনজীবীকে হাইকোর্টের আদেশ দ্রুত নিয়ে আসার জন্য নির্দেশ দেন। চাঞ্চল্যকর এ মামলায় মোট ৫১ জনকে সাক্ষী হিসেবে রাখা হয়েছে। বুধবার মামলার বাদীসহ ৫ জনের সাক্ষ্য দেয়ার কথা ছিল।

গত ১৭ জানুয়ারি গণধর্ষণ মামলার অভিযোগ গঠন করেন আদালত। এর আগে গত ৩ ডিসেম্বর সিলেটের মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আবুল কাশেমের আদালতে ৮ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য।

এতে ছাত্রলীগ নেতা সাইফুর রহমানকে প্রধান করে ছয়জনের বিরুদ্ধে সরাসরি ধর্ষণে জড়িত থাকা এবং অপর দুইজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণে সহায়তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান ওরফে রনি, তারেকুল ইসলাম ওরফে তারেক, অর্জুন লস্কর, আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল ও মিসবাউল ইসলাম ওরফে রাজনকে দল বেঁধে ধর্ষণের জন্য অভিযুক্ত করা হয়। আসামি রবিউল ও মাহফুজুরকে ধর্ষণে সহায়তা করতে অভিযুক্ত করা হয়। আট আসামিই বর্তমানে কারাগারে আছেন। তারা সবাই ছাত্রলীগের নেতাকর্মী হিসেবে পরিচিতি।

গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে সিলেটের বালুচর এলাকার এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গণধর্ষণের শিকার হন এক নববধূ। কলেজের গেট থেকে স্বামীসহ তাকে ধরে ছাত্রাবাসে এনে স্বামীকে বেঁধে নারীকে গণধর্ষণ করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।