ঢাকা, বাংলাদেশ | সময়ঃ ৯:১৯ পূর্বাহ্ণ
আজ শনিবার, ৮ মে, ২০২১
অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সংঘর্ষ। ছবি: স্টার মেইল

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে দফায় দফায় সংঘর্ষে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ও বিদ্রোহী প্রার্থীসহ তাদের অনুসারী শতাধিক লোক আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালেই ভর্তি করা হয়েছে অন্তত ৪০ জনকে।

এছাড়া আহতদের অনেকে বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালেও চিকিৎসা নিচ্ছেন। এছাড়া নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতায় আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি।

বিএনপি মেয়র প্রার্থীর প্রধান নির্বাচন সমন্বয়ক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী দাবি করেছেন, তাদের ২০০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন সরকারি দলের লোকজনের হামলায়।

চমেক হাসপাতাল সূত্র জানায়, ১৪ নম্বর লালখানবাজার ওয়ার্ডে নির্বাচনী সহিংসতায় গুরুতর আহত হয়ে বুধবার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন ১০ জন। ১৩নং দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডে সংঘর্ষে ১০ জন, চান্দগাঁও ওয়ার্ডে চারজন, পাথরঘাটা ও চকবাজার ওয়ার্ডে একজন করে এবং অন্যান্য ওয়ার্ডের ১৪ জনসহ ৪০ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন। এদের কেউ গুলিবিদ্ধ, কেউ ছুরিকাঘাত কিংবা ইটপাটকেল এবং লাঠিসোটার আঘাতে আহত  হয়েছেন।

১১নং দক্ষিণ কাট্টলী ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থী মোরশেদ আকতার চৌধুরী সকাল ৮টার দিকে ছুরিকাহত হন। সরাইপাড়া কাজীর দীঘিরপাড় এলাকায় প্রতিপক্ষ কাউন্সিলর প্রার্থীর লোকজন তাকে ছুরিকাঘাত করেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।

২১ নম্বর আন্দরকিল্লা ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী নোমান লিটনকে স্বয়ং আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী জহরলাল হাজারি কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন। লিটন নিজের ফেসবুকে এ নিয়ে স্ট্যাটাস দেন।

৯, ১০ ও ১৩নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর প্রার্থী সখিনা বেগম ছুরিকাহত হন। সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর প্রার্থী তাসলিমা বেগম, নূর জাহান রুবী ও আবিদা আজাদের অনুসারীরা তার ওপর হামলা করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

২৪নং ওয়ার্ডের উত্তর আগ্রাবাদ টিএন্ডটি কলোনি কেন্দ্রে বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী এসএম ফরিদুল আলমের ওপর বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে হামলার ঘটনা ঘটে। আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী নাজমুল হক ডিউকের সমর্থকরা তার ওপর হামলা চালান। তারা তাকে কেন্দ্রের ভেতর থেকে মারতে মারতে বের করে দেন। হামলায় তার (ফরিদুল) হাত ভেঙে গেছে বলে অভিযোগ করেন।

৩৪নং পাথরঘাটা ওয়ার্ডে বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী মো. ইসমাইল হোসেন বালী ও আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর প্রার্থী অনুপ খাস্তগীরের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পাথরঘাটা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও জেএম সেন স্কুল ও কলেজ কেন্দ্রে দফায় দফায় এ সংঘর্ষ হয়। উভয় পক্ষের সংঘর্ষে ১০ থেকে ১২ জন আহত হন। এ সময় কেন্দ্র দুটির তিনটি ইভিএম মেশিন ভেঙে ফেলা হয়। ভাংচুর করা হয় তিনটি বাস ও একটি মোটরসাইকেল।

২৮নং পাঠানটুলি ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাহাদুর ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থী আবদুল কাদেরের সমর্থকদের মধ্যে বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে মারামারি ও গুলাগুলির ঘটনা ঘটে। এখানে একটি কেন্দ্র থেকে আবদুল কাদেরের এজেন্টদের ধরে নিয়ে থানায় আটকে রাখে ডবলমুরিং থানা পুলিশ। কাদেরের স্ত্রী সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করেন।

এদিকে সকাল ১০টায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। মুরাদপুর এলাকার একটি ভোট কেন্দ্র থেকে বিএনপি প্রার্থীর এজেন্টকে বের করে দেয়ার ঘটনায় দুই পক্ষে সংঘর্ষ বাধে।

পাঁচলাইশ থানার ওসি আবুল কাশেম যুগান্তরকে বলেন, দুইপক্ষের সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে পাঁচলাইশ থানার এসআই  আবদুল মোতালেব ও আবু তালেব আহত হয়েছেন।