ঢাকা, বাংলাদেশ | সময়ঃ ৫:১৬ অপরাহ্ণ
আজ শনিবার, ৮ মে, ২০২১
আমার চাচা ভারসাম্যহীন : ম্যারি ট্রাম্প |||||| আগ্নেয়াস্ত্র কিনতে বন্দুকের দোকানে ভিড়
অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব সোমবার (বাংলাদেশ সময় আজ) কংগ্রেসে উপস্থাপন হতে পারে। মঙ্গল বা বুধবার প্রস্তাবটি আলোচনায় আসতে পারে। ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলে হামলার পর ট্রাম্পকে ক্ষমতা থেকে সরানোর বিষয়টি আলোচনায় আসে। তাকে অপসারণের একাধিক বিকল্প নিয়ে কাজ করছেন আইনপ্রণেতারা। রিপাবলিকান পার্টির নেতারাও তাকে স্বেচ্ছায় সরে যেতে আহ্বান জানাচ্ছেন।

 



এদিকে সহিংস পরিস্থিতির আশঙ্কায় সাধারণ মার্কিনিরা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। আগ্নেয়াস্ত্র কিনতে শহরের বন্দুকের দোকানগুলোয় তারা ভিড় করছেন। খবর বিবিসি, এএফপি, রয়টার্স ও সিএনএনের। ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা ট্রাম্পকে সরাতে আনুষ্ঠানিকভাবে পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছেন। কংগ্রেস ও সিনেটে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিশংসন প্রস্তাব পাস হলে তিনি ক্ষমতা হারাবেন। এ ছাড়া রাজনীতি করার অধিকারও তিনি হারাবেন।

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব সোমবার (স্থানীয় সময়) কংগ্রেসে উপস্থাপন হতে পারে। এরপর সেটি সিনেটে পাঠানো হবে। তবে এ জন্য তাদের অপেক্ষা করা হবে। এদিকে হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে অভিশংসনের উদ্যোগকে রাজনৈতিক চাল বলে উল্লেখ করে বলা হয়, এতে দেশের মধ্যে বিভাজন আরও বৃদ্ধি পাবে। স্থানীয় সময় রোববার কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের হুইপ জেমস ক্লাইবার্ন বলেন, অভিশংসন প্রস্তাব ১০০ দিন পর সিনেটে পাঠানোর ব্যাপারে তিনি ও স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি আলোচনা করছেন।

সিনেটে রিপাবলিকান পার্টির নেতা মিচ ম্যাককনালকে দক্ষ আইনপ্রণেতা হিসাবে ক্লাইবার্ন উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, মিচ ম্যাককনাল কৌশলে নতুন প্রশাসনকে বাধাগ্রস্ত করতে সব ধরনের চেষ্টা করবেন। স্পিকার ন্যান্সি পেলোসিকেও কংগ্রেসের রাজনীতিতে দক্ষ খেলোয়াড় বলে উল্লেখ করেন ক্লাইবার্ন। তিনি বলেন, পেলোসি ঠিকই জানেন, কখন কী করতে হবে।

ট্রাম্পের পদত্যাগ দাবি করেছেন রিপাবলিকান সিনেটর প্যাট টুমি। তিনি বলেন, আমার মনে হয় দেশের জন্য এখন সবচেয়ে ভালো হবে যদি ট্রাম্প পদত্যাগ করে দ্রুত বিদায় নেন। আমি জানি তা হয়তো হবে না। কিন্তু এটা হলেই ভালো হতো। এর আগে আলাস্কার রিপাবলিকান সিনেটর লিসা মারকাউস্কি প্রথম ট্রাম্পের পদত্যাগ দাবি করেন। নেব্রাস্কার রিপাবলিকান সিনেটর বেন স্যাসেও ট্রাম্পের অভিশংসন নিয়ে কথা বলেন।

ট্রাম্পকে ‘সবচেয়ে জঘন্য প্রেসিডেন্ট’ হিসাবে উল্লেখ করেছেন আরেক রিপাবলিকান ক্যালিফোর্নিয়ার সাবেক গভর্নর আরনল্ড শোয়ার্জনিগার। তবে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ভোট দেবেন রিপাবলিকানদের কেউ এমন ইঙ্গিত দেননি। ট্রাম্পকে সরাতে পেন্স রাজি না হলেও এগোবেন পেলোসি : মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি বলেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স রাজি না হলেও পরিষদ ট্রাম্পকে অভিশংসনের প্রক্রিয়া শুরু করবে।

তিনি বলেন, স্থানীয় সময় সোমবার সবার সম্মতিতে ট্রাম্পকে অপসারণের প্রস্তাব পাস করা হবে। সংবিধানের ২৫তম সংশোধনীর জন্য পেন্স ও ট্রাম্পের মন্ত্রিসভার প্রতি আহ্বান জানানো হবে। পেলোসি আরও বলেন, সর্বসম্মতিতে প্রস্তাব পাস না হলে এবং রিপাবলিকানদের বাধার মুখে পড়লে মঙ্গলবার এটি আবার ভোটাভুটির জন্য আনা হবে।

পেন্সকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রস্তাবের ওপর প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে। এমনটা না হলে ট্রাম্পকে অভিশংসন করার প্রক্রিয়া শুরু করবে হাউজ। ডেমোক্র্যাটদের উদ্দেশে পেলোসি বলেন, এরপর অভিশংসন আইন আনতে এগিয়ে যাব। তিনি বলেন, ‘আমাদের সংবিধান ও গণতন্ত্র রক্ষার জন্য আমরা জরুরি ভিত্তিতে কাজ করব। কারণ, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ দুটোর জন্যই হুমকি। যত দিন যাচ্ছে, গণতন্ত্রের জন্য ট্রাম্প তত হুমকি হয়ে উঠছেন। এ কারণে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।’

আমার চাচা ভারসাম্যহীন : সমর্থকদের উসকানি দিয়ে ক্যাপিটল হিলে হামলার ঘটনার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে ও বহির্বিশ্বে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন বিদায়ি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সমালোচকদের তালিকায় এবার যোগ হলেন খোদ ট্রাম্পের ভাতিজি ম্যারি ট্রাম্প। সম্প্রতি ব্রিটিশ পত্রিকা গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের চাচাকে ভারসাম্যহীন উল্লেখ করে তাকে গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হিসেবে মন্তব্য করেন ম্যারি।

তিনি বলেন, নির্বাচনে হেরে গিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প বর্তমানে অনেকটাই মানসিক ভারসাম্যহীন। মার্কিন গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর আর কিছু করার আগেই তাকে অভিশংসন করে ক্ষমতা থেকে সরানো উচিত। আর এ প্রক্রিয়া যত দ্রুত সম্ভব শুরু করতে আইনপ্রণেতাদের প্রতি আহ্বান জানান ম্যারি।

ম্যারি ট্রাম্প বলেন, বুধবারের ঘটনায় আমি ব্যথিত। এখন কথা বলার সময় না। এখন দ্রুত কাজ করার সময়। আমার বিশ্বাস ২৫তম সংবিধান সংশোধন আনা হবে। তবে আমি মনে করি, ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স এটি করবেন না। কারণ, এ গ্রহের সবচেয়ে বড় কাপুরুষ হলেন তিনি।