ঢাকা, বাংলাদেশ | সময়ঃ ১১:০১ পূর্বাহ্ণ
আজ শনিবার, ৮ মে, ২০২১
অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

যুক্তরাষ্ট্রের সদ্যবিদায়ি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে অধিকাংশ রিপাবলিকান সিনেটর থাকায় তাকে অভিশংসন করা সহজ হবে না। তার বিচারের বিরুদ্ধে ৪৫ জন রিপাবলিকান সিনেটর অবস্থান নিয়েছেন। ট্রাম্পের অভিশংসনকে তারা অসাংবিধানিক হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন। খবর বিবিসি, এপি, আল জাজিরা ও রয়টার্সের।


সোমবার দেশটির পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটে ট্রাম্পের অভিশংসন বিচারের প্রস্তাব তোলা হয়। মঙ্গলবার প্রস্তাবটি খারিজের পক্ষে রিপাবলিকানের অধিকাংশ সিনেটর ভোট দিয়েছেন। দলীয় সিনেটরদের সমর্থনে অভিশংসন বিচার থেকে ট্রাম্প এবারও রেহাই পেতে পারেন বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

ট্রাম্পের অভিশংসন বিচারের পক্ষপাতী বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও। সোমবার তিনি বলেছিলেন, তিনি নিজেও মনে করেন না সিনেটে সাবেক প্রেসিডেন্টকে দোষী সাব্যস্ত করা সম্ভব হবে। কারণ, ট্রাম্পকে অভিযুক্ত করতে হলে ১৭ জন রিপাবলিকান সিনেটরের ভোট প্রয়োজন হবে। যেটি প্রায় অসম্ভব। মঙ্গলবার সাবেক প্রেসিডেন্টের বিচারের ভিত্তি নিয়ে সিনেটে প্রশ্ন তোলেন রিপাবলিকান সিনেটর র‌্যান্ড পল। তার দাবি, সংবিধানে একজন সাবেক প্রেসিডেন্টের অভিশংসন বিচারের কোনো কথা নেই। ট্রাম্প হোয়াইট হাউজ ছেড়ে যাওয়ায় তাকে এ ধরনের বিচারের মুখোমুখি করার কোনো সুযোগ নেই।

রিপাবলিকানদের এ প্রস্তাব অবশ্য শেষ পর্যন্ত নাকচ করে দিয়েছে সিনেট। সেখানে ভোটাভুটিতে ৫৫-৪৫ ভোটে প্রস্তাবটি নাকচ হয়। ফলে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্পের অভিশংসন বিচার শুরুতে আর কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকছে না। সিনেটে ভোটাভুটির পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রিপাবলিকান সিনেটর র‌্যান্ড পল।

তিনি বলেন, ভোটাভুটিতে পরাজয় হলেও প্রকৃত অর্থে তাদেরই জয় হয়েছে। গোড়াতেই অভিশংসনের বিচারের ইতি ঘটেছে। তার ইঙ্গিত, এদিনের মতো অভিশংসন বিচারের দিনও ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ১৭ জন রিপাবলিকান সিনেটরের ভোট নিশ্চিত করতে পারবে না ডেমোক্র্যাট শিবির। ফলে শেষ পর্যন্ত নতুন প্রশাসনের পক্ষে ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করা সম্ভব হবে না।

৬ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট ভবন ইউএস ক্যাপিটলে ট্রাম্পের উগ্র সমর্থকদের হামলার পর তাকে অভিশংসনের পক্ষে আইনসভার নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে রায় দেওয়া হয়। ১৩ জানুয়ারি ২৩২-১৯৭ ভোটে প্রস্তাবটি পাস হয়। এর মধ্যদিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো নিম্নকক্ষে অভিশংসিত হন ট্রাম্প। চূড়ান্ত অভিশংসনের জন্য প্রস্তাবটি সিনেটে পাঠানো হয়। সেখানে এটি পাসের জন্য দুই-তৃতীয়াংশ সিনেটরের ভোটের প্রয়োজন হবে।

ট্রাম্পকে নিয়ে মুখ খুললেন ফাউসি : করোনাভাইরাস নিয়ে ট্রাম্প উদ্ভট সব ধারণা জনসমক্ষে বলতেন অবলীলায়। তিনি বলেছিলেন, জীবাণুনাশক দিয়ে ফুসফুস পরিষ্কার করলে এ ভাইরাস থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে। করোনাভাইরাসে যুক্তরাষ্ট্রে এরইমধ্যে চার লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ট্রাম্পের সময় করোনা মহামারি নিয়ন্ত্রণে হোয়াইট হাউজের টাস্কফোর্সের অন্যতম সদস্য অ্যান্থনি ফাউসি এখন মুখ খুলছেন।

ট্রাম্পের সময় নানামুখী চাপে থাকা ফাউসি বলেন, ট্রাম্পের বক্তৃতা শুনে তার চোখ কপালে ওঠার দশা হয়েছিল। তার বক্তৃতা শুনে লোকজন এমন কিছু করে ফেলে কি না, তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন। ট্রাম্পের কথায় শুধু ফাউসি নন, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মধ্যেও উদ্বেগ বেড়ে যায়। কিন্তু প্রেসিডেন্টের সরাসরি বিরুদ্ধাচরণ করে তারা বক্তব্যও দিতে পারছিলেন না।

তবে নানা শলাপরামর্শ করে সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোলের (সিডিসি) পক্ষ থেকে দ্রুত এ নিয়ে একটা সতর্কবাণী প্রকাশ করা হয় এবং জনগণকে এমন কিছু না করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরে ট্রাম্প তার এক বক্তৃতায় বলেছিলেন, তিনি হাস্যরস করতে গিয়ে জীবাণুনাশক দিয়ে করোনা দূর করার কথাটি বলেছিলেন।

মেরিল্যান্ডের রিপাবলিকান গভর্নর লেরি হোগান তখন এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, তার রাজ্যের বিপুলসংখ্যক লোক টেলিফোন করে জানতে চাইছেন জীবাণুনাশক দিয়ে ফুসফুস পরিষ্কার করার বিষয়টি। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের শপিং মলগুলোয় হঠাৎ করেই জীবাণুনাশক ডিটারজেন্টের বিক্রি বেড়ে যায়।