ঢাকা, বাংলাদেশ সময়ঃ ৪:১৫ অপরাহ্ণ শনিবার, ৮ মে, ২০২১
আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। ‘ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন’ (আইএসএস)
অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
ছবি: নাসার ওয়েবসাইট থেকে সংগৃহীত।

মাধ্যাকর্ষণ শক্তি নেই বললেই চলে। সেই মহাশূন্যেই এ বার মুলোচাষ করে ফেলল আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। ‘ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন’ (আইএসএস) নামের যে কৃত্রিম উপগ্রহ দীর্ঘ সময় ধরে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে চলেছে, তাতেই এই চমকপ্রদ পরীক্ষায় সফল হয়েছে তারা।  

পৃথিবী থেকে চাঁদ ও মঙ্গলে জনবসতি সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য বাস্তবায়িত করতে দিনরাত পরিশ্রম করছেন বিজ্ঞানীরা। তার জন্য পরিবার পরিজনদের ছেড়ে মাসের পর মাস মহাশূন্যেই কেটে যায় নভোচারীদের। সেখানে তাঁরা যাতে প্রয়োজনীয় ভিটামিন এবং খনিজ পান তার জন্য মহাশূন্যে চাষবাসের চেষ্টা চলছিল বহু দিন ধরেই। 

এত দিনে মুলোচাষের মাধ্যমে তাতে সাফল্য এল। আইএসএস-এর কলম্বাস ল্যাবরেটরি মডিউলের প্লান্ট হ্যাবিটাট-২-তে বীজ থেকে গাছ গজিয়ে ওঠার ছবি প্রকাশ করেছে নাসা। তাতে চৌকো একটি চৌকো আকারের একটি বাক্সে নানা ধরনের তারের মাঝখানে ২০টি সবুজ পাতা সম্বলিত চারাগাছ দেখা গিয়েছে।

এত রকমের ফসল থাকতে বেছে বেছে মুলোচাষই কেন করা হল, তার সপক্ষেও যুক্তি দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তাঁরা জানিয়েছেন, মুলোচাষ করতে খুব বেশি সময় লাগে না। মুলো কাঁচাই চিবিয়ে খাওয়া যায়। আবার এর পুষ্টিগুণও বেশি। তাই মহাশূন্যে মুলোচাষের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আর কিছু দিন পরেই মাটি খুঁড়ে মুলো তোলা হবে। পরীক্ষার জন্য তার নমুনা পাঠানো হবে পৃথিবীতে।

তবে মহাকাশে মুলোচাষ মোটেই সহজসাধ্য কাজ ছিল না বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। মাধ্যাকর্ষণ শক্তি না থাকায় শিকড় মাটিতে প্রবেশ করার উপায় ছিল না। তাই প্রথমে মাটির ‘বালিশ’ তৈরি করে তাতে বীজ পুঁতে দেওয়া হয়। তা থেকে চারা বেড়ে ওঠে। এই পদ্ধতিতে সমস্ত গাছ সমান জল এবং সারও পায়।

গবেষণায় দেখা গিয়েছে, নীল এবং লাল আলোতেই গাছ সবচেয়ে ভাল সাড়া দেয়। সেই মতো ওই বাক্সের মধ্যে এলইডি আলোর ব্যবস্থা রয়েছে। ১৮০-র বেশি সেন্সর বসানো রয়েছে। ফ্লোরিডায় নাসার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে গাছের বৃদ্ধিতে নজর রাখছেন বিজ্ঞানীরা। প্রয়োজন বুঝে জল, সার এবং তাপমাত্রার রদবদলও তাঁদের নজরদারিতেই হয়।  

 ইউনিভার্স ট্রিবিউন